facebook twitter You Tube rss bangla fonts

ঢাকা, ০৬ এপ্রিল রবিবার, ২০২৫

Walton

উদ্যোক্তা পরিচালকদের ‘শেয়ার বিক্রির সুনামি’


০৫ এপ্রিল ২০২৫ শনিবার, ০৭:৫৩  পিএম

ডেস্ক রিপোর্ট

শেয়ার বিজনেস24.কম


উদ্যোক্তা পরিচালকদের ‘শেয়ার বিক্রির সুনামি’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরা সম্প্রতি হঠাৎ করে বড় অঙ্কে শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর ফলে এসব ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত শেয়ার ধারণের হার ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন।

বিএসইসির বর্তমান আইন অনুযায়ী, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকগণকে সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার নিজেদের হাতে রাখতে হবে। এই নিয়ম কোম্পানির মালিকানায় নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনায় জবাবদিহিতা এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু সম্প্রতি যে পাঁচটি ব্যাংকে এই অনিয়ম দেখা গেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই এস আলম গ্রুপ এবং শিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোক্তারা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাচ্ছেন, যা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তাদের দায়বদ্ধতার অভাব এবং আগ্রহ হারানোর ইঙ্গিত দেয়। এটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শেয়ারের দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে উদ্যোক্তা পরিচালকরা সবচেয়ে কম শেয়ার ধারণ করছেন। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে তাদের শেয়ার ছিল ৩৫.৮৯ শতাংশ, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ০.১৮ শতাংশে। একইভাবে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে শেয়ার কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৯০ শতাংশ, যা পূর্বে ছিল ৩০.১৪ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৩৪.১০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১১.৬২ শতাংশ।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকেও উদ্যোক্তা শেয়ার ৫৯.৫৬ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ১৬.১১ শতাংশে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ব্যাংকে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ উদ্যোক্তা শেয়ার ছিল ২০.৩৩ শতাংশ, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৫.৫৩ শতাংশে। অথচ ২০২০ সালের আগে ব্যাংকটিতে উদ্যোক্তা শেয়ার ছিল ৩০ শতাংশেরও বেশি।

এই পরিস্থিতি নিয়ে বিএসইসি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পরিমাণ শেয়ার পুনরায় অধিগ্রহণ করে নিয়ম মেনে চলে। তবে উদ্যোক্তাদের অনীহা এবং বাজারের প্রতিকূল অবস্থার কারণে বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। এর মধ্যে শাস্তিমূলক জরিমানা, পরিচালনা পর্ষদ বাতিল কিংবা তালিকাচ্যুতির মতো সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোম্পানিগুলোকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সার্বিকভাবে, ব্যাংক খাতে উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রির এই প্রবণতা শুধু নির্দিষ্ট কোম্পানিগুলোর জন্য নয়, বরং গোটা শেয়ারবাজারের জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকির সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: