২৫ মার্চ ২০২৫ মঙ্গলবার, ১২:০৬ পিএম
ডেস্ক রিপোর্ট
শেয়ার বিজনেস24.কম
![]() |
এক সময় ফ্রিজ ছিল শুধুমাত্র সচ্ছল পরিবারের বিলাসী পণ্য। কিন্তু সময় বদলেছে। দেশীয় ইলেকট্রনিকস কোম্পানিগুলোর দাপটে এখন শহর কিংবা গ্রামের সাধারণ পরিবারের ঘরেও জায়গা করে নিয়েছে ফ্রিজ।
আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা ফ্রিজই ছিল বাজারের একমাত্র ভরসা। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ছবিটা বদলে গেছে। সরকারের শুল্কছাড় ও নীতি–সহায়তার ফলে এখন ঘরে ঘরে দেশীয় ব্র্যান্ডের ফ্রিজ পৌঁছে গেছে। বর্তমানে ফ্রিজের বাজারে ৮০-৯০ শতাংশ শেয়ার দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে।
ওয়ালটন, মার্সেল, মিনিস্টার, মাই ওয়ান, যমুনা, ট্রান্সটেক, ভিশন, ইলেকট্রা, র্যাংগ্সসহ একাধিক দেশীয় কোম্পানি নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যেও সিঙ্গার, স্যামসাং, এলজি, ওয়ার্লপুলসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দেশীয় বাজারে সংযোজন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
ফ্রিজের বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে গ্রামের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে। বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে গ্রামেও ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে। সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা মডেলগুলোর চাহিদা বেশি।
জার্মানিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ফ্রিজের বাজার ছিল ১৫৩ কোটি ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৩ কোটি ডলারে। ২০২৯ সাল নাগাদ এই বাজার ২৯৬ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দেশের ফ্রিজ বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় দুই ঈদের মৌসুমে, যা মোট বিক্রির ৬০-৭০ শতাংশ। বিশেষ করে কোরবানি ঈদের সময় ফ্রিজারের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। আসন্ন রোজার ঈদ সামনে রেখে বিক্রি ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
দেশীয় কোম্পানিগুলো শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই, রপ্তানিতেও এগিয়ে যাচ্ছে। ওয়ালটন ইতোমধ্যেই ৫০টির বেশি দেশে ফ্রিজ রপ্তানি করছে। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার যদি কর–ভ্যাট অবকাশসহ নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশীয় ফ্রিজ শিল্প আরও বিকশিত হবে।
শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।