০২ এপ্রিল ২০২৫ বুধবার, ০১:৪৩ পিএম
ডেস্ক রিপোর্ট
শেয়ার বিজনেস24.কম
সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে চায় না বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে—সংবিধান সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি।
এই তিনটি দলই মনে করে, অর্থবিলের মতো আস্থা ভোটের ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যদের দলের অনুগত থাকতে হবে। বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তাঁর দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। তবে এই বিধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এক পক্ষ বলছে, এটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা খর্ব করে, অন্য পক্ষ মনে করে এটি সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও মতবিরোধ অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন সংসদের নিম্নকক্ষে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলছে, এটি সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এবং সংসদ সদস্যদের কেনাবেচার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিএনপি মনে করে, সংসদে আস্থা ভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া যাবে না। জামায়াতে ইসলামীও মনে করে, এখনই ফ্লোর ক্রসিংয়ের নিয়ম বাতিল করা ঠিক হবে না। এনসিপিও অর্থবিল ও আস্থা ভোটে দলের অনুগত থাকার পক্ষে মত দিয়েছে।
৭০ অনুচ্ছেদের পটভূমি ১৯৭২ সালে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংযোজনের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দলের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনে করতেন, দলত্যাগ বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার প্রবণতা সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। তবে তখনই কিছু গণপরিষদ সদস্য এর বিরোধিতা করেছিলেন, দাবি করেছিলেন এটি দলীয় একনায়কত্ব তৈরি করবে।
বর্তমানে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ চলছে। শিগগিরই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।