২২ মার্চ ২০২৫ শনিবার, ১১:২০ এএম
স্টাফ রিপোর্টার
শেয়ার বিজনেস24.কম
![]() |
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এক-তৃতীয়াংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি ছাড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর বেনামি ঋণ, জালিয়াতির ঋণসহ আদায় অযোগ্য ঋণ খেলাপির তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩৬টি। এসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে গত বছরের প্রাথমিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা অনুমোদনের পরই লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ১২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তারা ২০২৫ সাল থেকে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। তবে ২০২৪ সালের জন্যও কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না সেসব ব্যাংক, যারা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ব্যাপকহারে বেড়েছে, ফলে তাদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা কঠিন হতে পারে। একইভাবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকও একই সমস্যার মুখোমুখি।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক ব্যাংকের মুনাফা অর্জন করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক লেনদেনেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণের পরিমাণের তুলনায় খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে মাত্র ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা।
তালিকাভুক্ত কয়েকটি ব্যাংকের সাম্প্রতিক খেলাপি ঋণের হার:
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ঋণ শ্রেণীকরণ নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণের হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।